শাইখ ড.মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান মাদানী

রাবিতা আল-আলাম আল-ইসলামী-এর ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে-২০২৫ এ শাইখ ড. শহীদুল্লাহ খান মাদানী হাফিযাহুল্লাহ-এর অংশগ্রহণ

বিশ্ব সংকট নিরশনে মুসলিম বিশ্বের শাসক ও আলিম সমাজের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানালেন- শাইখ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান মাদানী।

রাবিতা আল-আলাম আল-ইসলামী-এর ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে-২০২৫ এ বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীসের সেক্রেটারি জেনারেল শাইখ ড. শহীদুল্লাহ খান মাদানী হাফিযাহুল্লাহ-এর অংশগ্রহণ ও চমৎকার বক্তব্য প্রদান-(স্থান: হিলটন ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার, মক্কা-মুকররামা)।

গত ৬ ও ৭ মার্চ ২০২৫ সৌদি আরবের বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজ হাফি. এর পূর্ণ তত্ত্বাবধানে মক্কা মুকাররমায় হিলটন ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার এ দুদিন ব্যাপী রাবিতাতু আল আলাম আল- ইসলামী এর উদ্যোগে ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।

এতে ৯০ টি দেশের প্রায় চার শত বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্ববৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। কনফারেন্সে মূলত: বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের মাঝে সেতুবন্ধন ও নানা সমস্যা হতে উত্তরণের উপায় অবলম্বন বিষয়ে আলোকপাত ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ কনফারেন্সে সর্বমোট ৫৩ জন নির্ধারিত বক্তা ছিলেন। যাদের মাঝে বাংলাদেশ হতে আমন্ত্রিত অতিথি শাইখ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান মাদানী, সেক্রেটারি জেনারেল বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীস বক্তব্য রেখেছেন।

তিনি কনফারেন্সের চতুর্থ অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন। এ অধিবেশনের শিরোনাম ছিল, বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মার সমস্যা ও উত্তরণের উপায় অবলম্বনে সমন্বয়। ফিলিস্তিন, সিরিয়া ও সুদানসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশের সমস্যা উত্তরণের ক্ষেত্রে করণীয় বিষয়ে তিনি বক্তব্য রাখেন। তিনি কোরআন, সুন্নাহ ও বাস্তব অবস্থার নিরিখে বক্তব্য রাখেন। তার বক্তব্যের সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ:

প্রথমত তিনি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার প্রশংসা এবং মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি সালাত ও সালাম পেশ করেন। অতঃপর আয়োজক কর্তৃপক্ষকে কৃতজ্ঞতা জানান, যাদের মূলে হলেন সৌদি বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজ হাফি. এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান হাফি. তাঁর পূর্ণ তত্ত্বাবধানে এ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। একইভাবে কৃতজ্ঞতা জানান রাবিতার সু উচ্চ পরিষদের প্রধান, সৌদি আরবের প্রধান মুফতি শাইখ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আলুশ শাইখ, রাবিতার মহাসচিব ডক্টর মোহাম্মদ বিন আব্দুল করিম আল ইসা সহ যারা এ কনফারেন্সের পিছনে অবদান রেখেছেন সকলকে।

অতঃপর অধিবেশনের সভাপতি ডক্টর ইব্রাহিম, আলোচকবৃন্দ ও শ্রোতাবৃন্দকে সম্বোধন করে বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন আমরা সকলে অবগত যে, মুসলিম বিশ্ব নানামুখী সমস্যার চ্যালেঞ্জে রয়েছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিন,সিরিয়া,সুদন ও মুসলিম সংখ্যালঘু এলাকাসমূহ। তিনি বলেন এই চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় প্রস্তুত হতেহবে মুসলিম বিশ্বের শাসক ও আলিম সমাজকে। পারস্পরিক দ্বন্দ্ব, মতভেদ দূর করে আন্তরিকতা ও সহানুভূতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমাদের আওয়াজ হতেহবে এক ও অভিন্ন। মুসলিমদের স্বার্থ হাসিলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে আমার দৃষ্টিতে নিম্নরূপ পদক্ষেপ আমরা গ্রহণ করতে পারি।

প্রথম: মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং পরস্পরের মাঝে ঈমানী ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। এক্ষেত্রে কোরআন এবং সুন্নাহর অনেক নির্দেশনা রয়েছে।
সূরা আল হুজরাত ১০ নং আয়াত। এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই, তার প্রতি অবিচার করবে না, তাকে বিপদে ফেলে রাখবে না। সহীহ বুখারী ও মুসলিমের হাদিস। তবে মনে রাখতে হবে, এ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের ভিত্তি হবে আল্লাহ তাআলার বাণী। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা ফিরে আসো এমন একটি বাণীর দিকে যা আমাদের এবং তোমাদের মাঝে একই, তা হল আমরা এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করব না এবং আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করব না এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে পরস্পরে একে অপরকে রব বানিয়ে নিব না (সূরা আল ইমরান ৬৪ নাম্বার আয়াত)।

দ্বিতীয়: মুসলিমদের সঠিক দ্বীনের প্রতি ফিরে আসা। মুসলিমরা যখন ঈমানে দুর্বল হয়ে যাবে এবং সঠিক দিন থেকে দূরে সরে যাবে, তখনই আল্লাহ তাআলা তাদের উপর লাঞ্ছনা অবমাননা চাপিয়ে দেবেন। এ মর্মে হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন তোমরা অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যে লিপ্ত হবে, দুনিয়ার পিছনে মগ্ন হবে, দিনের জন্য ত্যাগ স্বীকার ও জেহাদ ছেড়ে দেবে, তখন আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’য়ালা তোমাদের উপরে লাঞ্ছনা চাপিয়ে দেবেন, যা কখনোই দূর হবে না যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের সঠিক দিনের প্রতি ফিরে আসো। (আবু দাউদ হাদীস সাহীহ)।

 

তৃতীয়: মুসলিম বিশ্বের শাসক ও আলিমদের দায়িত্ব উপলব্ধি করা।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা সকলে দায়িত্বশীল এবং তোমাদেরকে দায়িত্বশীলতার সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে হবে, যিনি শাসক তিনি তার দায়িত্বশীলতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন,… এ মর্মে হাদীস সহিহ বুখারী ও মুসলিম।

চতুর্থ: মুসলিম বিশ্বের শাসক ও আলেম সমাজের মতবিনিময় বৈঠক ও সম্মেলন বেশি বেশি হওয়া: যেমনটি আমরা আজকের এই কনফারেন্সে উপকৃত হচ্ছি, মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়েছি। এ ধরনের সম্মেলন যত বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে, তত বেশি উপকৃত হব। আর এজাতীয় বড় বড় সম্মেলনের আয়োজন কেবলমাত্র রাবিতা ও সৌদি সরকারের পক্ষেই সম্ভব।

পঞ্চম: লক্ষ্য উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সম্মেলন পরবর্তী যোগাযোগ রক্ষা করা।
কারণ সম্মেলনে সকলেই অভিমত ব্যক্ত করে কিন্তু পরবর্তী যোগাযোগ রক্ষা না করলে লক্ষ্য উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হয় না।

পরিশেষে আয়োজক কর্তৃপক্ষকে কৃতজ্ঞতা জানান এবং দোয়া করেন সৌদি আরবসহ সকল মুসলিম বিশ্বকে আল্লাহ রক্ষা করুন, নিরাপদে রাখুন, মুসলিম উম্মাকে কোরআন সুন্নাহ অনুযায়ী ঐক্যবদ্ধ হয়ে চলার তৌফিক দান করুন।

Share With
Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
সর্বশেষ পোস্ট
মাননীয় ধর্ম উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন হাফিযাহুল্লাহ-এর বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীসের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং মাদরাসা মুহাম্মাদীয়া আরাবীয়া পরিদর্শন ও সংবর্ধনা সভা-২০২৪ গতকাল সফলভাবে সুসম্পন্ন হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ।
Special Web Offer
Do you want to Create your Own or Business's Digital Appearance